ঘামের গন্ধ শুঁকে মানুষকে দংশন করে যে ভয়ঙ্কর সাপ!


বাংলাদেশে শতাধিক প্রজাতির যে সাপ পাওয়া যায়, তার মধ্যে বেশিরভাগই বিষমুক্ত। এসব সাপের দংশনে মানুষের মৃ’ত্যু না হলেও কয়েক প্রজাতির বিষধর সাপও রয়েছে। এমনই এক বিষধর ভ’য়ঙ্কর সাপের বিষয়ে জেনে নিন- যে সাপ গন্ধ শুঁকে ঘুমন্ত মানুষকে দংশন করে।

যেসব সাপের দংশনে মৃ’ত্যু হতে পারে তার মধ্যে তিন প্রজাতির গোখরা, দুই প্রজাতির ঢোঁড়া, চার প্রজাতির বোরা, তিন-চার প্রজাতির সামুদ্রিক সাপ, দুই প্রজাতির কোরাল সাপ ও চার প্রজাতির কেউটে সাপ উল্লেখযোগ্য।

এদের মধ্যে একটি গুপ্তঘা’তক ফনাহীন বিষাক্ত কেউটে। বাংলাদেশে এটি কালাচ কেউটে নামেও পরিচিত। ইংরেজিতে Common Krait নামের এ সাপকে বৈজ্ঞানিকভাবে Bungarus caeruleus বলা হয়। এটি মানুষের গায়ের ঘাম শুঁকে দংশন করে।

বলা হয়ে থাকে, ‘ঘামচাটা’ এ সাপ ঘামের গন্ধ নিতে ঘুমন্ত মানুষের বিছানায় উঠে আসে। এর বিপক্ষেও নানা মত রয়েছে। তাদের প্রধান মত, এ সাপের ঘ্রাণ শক্তি আছে- এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

পরিবেশকর্মী রিপন দে তার এক সাম্প্রতিক লেখায় বলেছেন, কালাচের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে মে থেকে ডিসেম্বর। এই সময়ে বাংলাদেশের সব জায়গায় এ সাপ পাওয়া যায়। কিন্তু নিশাচর হওয়ায় গভীর রাতে বিচরণ করে থাকে, তাই তেমন একটা মানুষের চোখে পড়ে না।

তিনি বলছেন, ঘামের গন্ধ নিতে বিছানায় চলে আসা এই সাপ ঘুমন্ত মানুষের নড়াচড়ায় আ’ঘাত পেলেই নীরবে দংশন করে দ্রুত সট’কে পড়ে। সবচেয়ে ভ’য়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, অন্য বিষাক্ত সাপ ৬০-৭০ ভাগ ড্রাইবাইট (দংশন করবে, বিষ ছাড়বে না) থাকলেও এ সাপ দংশন মাত্রই শতভাগ বিষ প্রয়োগ করে।

এ সাপের দাঁত মশার হুলের মতো, দাগ পড়ে না; যন্ত্র’ণাও হয় না, আক্রান্ত জায়গা ফোলে না- এ কারণে যাকে দংশন করে সে সহ’জে টের পায় না। তবে এ সাপ দংশন করলে অধিকাংশ রোগী ভোরে তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। এ ছাড়া চোখের পাতা লেগে আসা, বমি বমি ভাব হওয়া, জ্বরের মতো অস্বস্তি হওয়া ও ধীরে ধীরে র’ক্ত জমাট বাঁধতে থাকা লক্ষ্য করা যায়।

কালাচকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভ’য়ঙ্কর সাপ উল্লেখ করে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ও গবেষক আদনান আজাদ আসিফ বলেছেন, সারাদেশেই গুপ্তঘা’তক এ সাপের বিচরণ। এ নিয়ে বেশিরভাগ
মানুষ জানে না বলে চিকিৎসাও নিতে পারে না।

তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ সাপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালাচ সাপ থেকে বাঁচবেন যেভাবে
ক. রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমান।
খ. রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যাবহার করুন।
গ. সাপটি দেখা গেলে না মে’রে সরে যাওয়া সুযোগ করে দেয়া।
ঘ. বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মনোয়ার হাসান জানান, কালাচ সাপের বিষে প্যারালাইসিসও হতে শুরু করে। এর বিষ নিউরোট’ক্সিন। তাই আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে। অন্যথায় মৃ’ত্যু নিশ্চিত।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*